সিলেটের আদিমধ্যযুগীয় তাম্রশাসন নিয়ে ইউল্যাব সিএএস-এর লেকচার লিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের নতুন মূল্যায়ন

সিলেটের আদিমধ্যযুগীয় তাম্রশাসন নিয়ে ইউল্যাব সিএএস-এর লেকচার লিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের নতুন মূল্যায়ন

Publish Date: 
Wednesday, July 29, 2026

২৬ জুলাই, রবিবার,  ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সেন্টার ফর আর্কিওলজিক্যাল স্টাডিজ (সিএএস) ও জেনারেল এডুকেশন (জিইডি) বিভাগের এর যৌথ উদ্যোগে সিলেটের আদিমধ্যযুগীয় তাম্রশাসন নিয়ে সিএএস সামার লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউল্যাব-এর জেনারেল এডুকেশন (জিইডি) বিভাগের প্রধান এবং সিএএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুসনে জাহানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে লেকচারটি শুরু হয়। গবেষকগণ বঙ্গীয়-বদ্বীপ অঞ্চলে আদিমধ্যযুগের মানব বসতির ধরন ও বস্তুগত সংস্কৃতি বোঝার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত অনুসন্ধানমূলক জরিপ ও খননকাজের ওপর নির্ভর করে এসেছেন। তবে এই লেকচারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষক ও শিক্ষক তুলি গুহ মজুমদার সিলেট অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রাচীন লিপির সাথে সরাসরি মাঠ-প্রত্নতত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে আদিমধ্যযুগের মানব বসতিগুলোর একটি কেস-ভিত্তিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। পদ্ধতিগত দিক থেকে তাঁর এই গবেষণা প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

লেকচারে  তুলি মজুমদার বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে আবিষ্কৃত ৭ম থেকে ১১শ শতকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ তাম্রশাসন, যথা নিধানপুর তাম্রশাসন  (৭ম–৮ম শতক), কালাপুর তাম্রশাসন (১১শ–১২ শতক), পশ্চিমভাগ তাম্রশাসন (৯ম–১০ম শতক) এবং দুটি ভাটেরা তাম্রশাসন (১১শ–১২ শতক), এর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের গবেষণার চিত্র তুলে ধরেন। প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি তাম্রশাসনগুলোর প্রাপ্তিস্থান চিহ্নিত করেন। গবেষক তুলি মজুমদার আরো উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র তাম্রশাসনের প্রাপ্তিস্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রাচীন মানব বসতির ইতিহাস পুনর্নির্মাণের নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রাচীন লিপিগুলোকে তাদের নিজস্ব ভৌগোলিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে রেখে বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এই লেকচারে উপস্থাপিত গবেষণাটি স্থানীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু সুরক্ষা ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য অনুসন্ধানে ভূমিকা রাখছে—যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ১১: টেকসই শহর ও সম্প্রদায় (বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা ১১.৪: বিশ্বের সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ) অর্জনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে। পাশাপাশি, প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির এ প্রয়াস SDG ৪: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের অন্যতম প্রতিফলন।